ঢাকা , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ , ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর "ঈদ আনন্দ মিছিল" অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-২০ ২৩:০৯:৩৫
​রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর "ঈদ আনন্দ মিছিল" অনুষ্ঠিত ​রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর "ঈদ আনন্দ মিছিল" অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক​
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের
উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মিছিল শুক্রবার (২০ মার্চ) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর পুরানা পল্টন-বিজয়বগর এলাকায় প্রদক্ষিণ করে। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ঈদ আনন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান সহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও মিছিলে সর্বস্তরের জনশক্তিও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে জননেতা ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুঁশির সওগাত নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত। ঈদুল ফিতর ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে শান্তি ও সহমর্মিতার অনুপম শিক্ষা দেয় এবং সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্যে অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যদি বাস্তব জীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি তাহলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশবাসী দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে। জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী প্রথম ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে দেশবাসী। দেশের জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্খা নতুন সরকারের প্রতি। জনগণ চায় রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। জাতির প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতে ইসলামী সংসদের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশ এবং দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে এবং বাহিরে জনগণের পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদ এবং আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চলেছে, সেইভাবেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দিতে হবে।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদ হলো ঐক্যের প্রতীক। সকলের সাথে একাকার হওয়ার প্রেরণাই হলো- ঈদ। তাই আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব-ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চেতনা যদি অটুট থাকে তবে আগামীর সমাজ হবে ন্যায়, ইনসাফ ও শোষনহীন এক আদর্শ সমাজ। সেই সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ঈদের প্রকৃত খুশি সকলে মিলে উপভোগ করবো ইনশা আল্লাহ । নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে দলমত, জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের প্রিয় নগর থেকে গ্রাম সর্বস্তরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তুলি।

মহান রব আমাদের সকলকে সহীহ্ বুঝ দান করুক এবং জাতির কল্যাণে আমাদেরকে নিবেদিত রাখুক। সেই সঙ্গে সবাইকে আবারও আন্তরিকভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।” তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ অর্থ : মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনার নেক আমল তথা ভাল কাজগুলো কবুল করুন। - আমীন

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ